পুলিশ এবং কর্তৃপক্ষের মামলায় বাঁশখালীতে আড়াই হাজার শ্রমিক আসামি!

রবিউল হোসেন রবি, চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট’-এ পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় এবার ‘হামলাকারীদের’ বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। একটি পুলিশ বাদি হয়ে এবং অপরটি কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে করা দুটি মামলার এজাহারে ২২ জন করে আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আড়াই হাজার জনকে।

আজ রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবীর। তিনি বলেন, ‘গতকালের ঘটনায় পুলিশ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বয়ক ফারুক আহমেদ বাদি হয়ে দুটি মামলা করেছে। পুলিশের মামলায় অজ্ঞাত দুই থেকে আড়াই হাজার জনকে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বয়কের করা মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়।’

এর আগে শনিবার (১৭ এপ্রিল) ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ শ্রমিক। তারা হলেন: কিশোরগঞ্জের ফারুক আহমদের ছেলে মাহমুদ হাসান রাহাত (২২), চুয়াডাঙ্গার অলিউল্লাহর ছেলে মো. রনি হোসেন (২৩), নোয়াখালীর আব্দুল মতিনের ছেলে মো. রায়হান (১৯), চাঁদপুরের মো. নজরুলের ছেলে মো. শুভ (২২) এবং বাঁশখালীর পূর্ব বড়ঘোনার আবু ছিদ্দিকির ছেলে মাহমুদ রেজা (১৯)।

এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসনের কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে এবং পুলিশের তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *