মিজানুরের চিকৎসক হবার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এলেন চেয়ারম্যান

জামাল বাদশা, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: গরীব ও মেধাবী ছাত্র মোঃ মিজানুর রহমান। স্বপ্ন পূরণে মেধাকে কাজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে তবে বাধা অর্থ। অর্থের অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হওয়া সেই মিজানুর রহমানের পাশে দারিয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন।

লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার চর কুলাঘাট এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান এমবিবিএস ভর্তি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বরিশাল শের- ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।কিন্তু অর্থাভাব তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সংশয় নিয়ে এসেছে। এ সংবাদ পেয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়েছন লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন এবং তার বড়ভাই জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বদিউজ্জামান প্লাবন।

মিজানুর রহমান চর কুলাঘাট চরাঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় স্বপ্ন দেখেন চিকিৎসক হয়ে চর কুলাঘাটসহ গোটা লালমনিরহাট জেলার মানুষের সেবা করার।

জানাগেছে, ২০১২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বাবাকে হারায় সে। ছয় সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমসিমের মুখে পড়েন মিজানুরের মা। ছেলে মেধাবী হওয়ায় মিজানুরকে নিয়ে শত কষ্টের মাঝেও এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা করাতে থাকেন মা জোবেদা বেগম।

মা জাবেদা বলেন, মাইনসের কাজ করি ঘরোত মুস্টির চাউল থুইয়া ধার দেনা করিয়া ছাওয়াটাক খুব কষ্ট করি এতদুর নিয়া আছছুং, মোর কিছু নাই, মোর ছাওয়াটাক সবাই মিলি সাহায্য করি স্বপ্ন পূরণ করি দেও।

মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ৫ ভাই ১ বোন আমি সবার ছোট এবং আদরের। ৬ বছর আগে আমার বাবা মারা যায়। তারপর থেকে আমার মা অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে মানুষ করতেছে। এখন আমি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। তবে কলেজে ভর্তি হতে প্রয়জন অনেক টাকার। বাড়িভিটে ছাড়া আর কোনো জমিজমা না থাকায় পড়াশুনা করতে খুব কষ্ট হয়েছে। সকলের সহযোগিতা পেলে হয়ত আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ সহজ হবে।

স্থানীয়রা বলেন, ছেলেটা ছোট থেকে খুব চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এতদুর এসেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান এর মত হ্রদয়বানরা সাহায্যের হাত বাড়িলে দিলে তার আশা পূরণ হবে৷

কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বলেন, মিজানুর মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে শুনে ভালো লাগলো। সে আমার এলাকার গর্ব। আমি আমার ব্যক্তিগত ও ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে সহযোগিতা করবো।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন বলেন, মিজানুর রহমানের মেডিকেল কলেজের ভর্তির কথা শুনে তাকে ও তার পরিবারকে আমি এবং আমার বড়ভাই জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বদিউজ্জামান প্লাবনসহ নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছি। আমি চাই মিজানুর রহমানের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হোক। ভবিষ্যতেও তাকে সহযোগিতা করবো। এসময় সমাজের বিত্তবানদেরও মিজানুর রহমানকে সহায়তা করার আহবান জানান তিনি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *