কক্সবাজারে দোকান ভাড়ার ঘটনায় হামলা-ভাঙচুর, আটক ৮

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় ভাড়া নিয়ে জবরদখল করা দোকান দখলে নিতে রাতের আধারে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে মালিক পক্ষ। এসময় দোকানে থাকা মালামালসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) ভোর রাত ৩ টার দিকে হামলা ও ভাংচুরের এ ঘটনায় পুলিশ ৮ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, খরুলিয়া বাজারের ঘাট পাড়া সড়কের একটি দোকানসহ কিছু জমি নিয়ে ওই এলাকার মৌলভী হাফেজ আহাম্মদের ছেলে এমদাদ উল্লাহর ছেলেদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো।

এই বিরোধের জের ধরে কক্সবাজার শহরের চিহ্নিত কিশোর গ্যাং এর ১৫-২০ জন সশস্ত্র যুবক আকতার আহমদের ছেলে জসিম উদ্দীনের দখলীয় দোকানে হামলা চালায়। এতে বাঁধা দিতে গেলে খরুলিয়া বাজারের পাহারাদার নুরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর নামের স্থানীয় এক দোকানদারকে মারধর করা হয়।

ব্যবসায়ী জসিমের ভাষ্যমতে, মৌলভী হাফেজ আহাম্মদের ছেলেমুহিব উল্লাহ ও মেয়ে রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে প্রায় ২ গন্ডা জমি ক্রয় করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই জমি কোনভাবেই দখলে নিতে না পেরে এমদাদ উল্লাহর ছেলেদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া দোকানটি তিনি মালিকানা হিসেবে ভোগ দখল করে আসছেন।

জসিম আরো জানান, বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এমদাদ উল্লাহর ছেলে এরশাদ উল্লাহ, আশেক উল্লাহ, আরশাদ উল্লাহ, এজাজ উল্লাহ ও আসাদ উল্লাহসহ কক্সবাজার শহর কেন্দ্রীক একটি কিশোর গ্যাং এর নেতৃত্বে তার (জসিমের) দোকানে হামলা ও ভাংচুর চালাচ্ছেন, এমন খবর পেয়ে তিনি ৯৯৯ এ কল করেন। জাতীয় নিরাপত্তা সেবায় সহযোগিতায় সদর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হয়। এতে সংঘর্ষ ও রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়।

পুলিশ আসায় হামলাকারিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কেউ পালিয়ে যায় কেউ এমদাদের বাড়ীতে ঢুকে পড়ে। এময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে হামলা-ভাংচুরের প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন ব্যারিকেড দিয়ে ঘাটপাড়া সড়কটি বন্ধ করে দেয় এবং দোনাকের আশেপাশে ঘিরে রাখে। পরে সকাল ১১ টার দিকে পুলিশ এসে এমদাদের বাড়ীতে আটকা পাড়া ৪ জনকে আটক করে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে দোকানের মালিক আরশাদ উল্লাহ জানান, তাদের মালিকাধীন জায়গায় নির্মিত ৬ দোকান থেকে ১টি দোকান ২০১৩ সালে জসিমকে ভাড়া হিসেবে চুক্তি করে দেয়। পরবর্তীতে মেয়াদ শেষ হলে ২০১৭ সালে তিন বছরের জন্য পুনরায় চুক্তি হয়। এর কিছুদিন পর তার চাচা মুহিব উল্লাহ এবং ফুফু রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে জসিম কিছু জমি ক্রয় করেন। অথচ তারা জমি বিক্রি করলেও তাদের কোন দখল ছিলনা। এরপর থেকে জসিম গংরা বিভিন্নভাবে আমার দখলীয় দোকানের জমি দখলে নিতে চেষ্টা চালালেও জমিটি মুহিব- রাবেয়াদের দখলে না থাকায় তারা ব্যর্থ হয়। দোকানটি মালিকানা হিসেবে ভোগ দখল দাবি শুরু করে।

আরশাদ বলেন, আমার দোকানটি তাকে ভাড়া দিয়েছি ৭ বছর ধরে। গত বছর থেকে দোকানের ভাড়া পরিশোধ না করে দোকানের মালিকানা দাবী করে আসছে জসিম। তিনি আমার চাচা-ফুফুর কাছ হতে কিছু জমি ক্রয় করেছেন একথা সত্য। কিন্তু তাই বলে আমাদের অংশ তারা দখল করে রাখবে? সে যদি জমির মালিক হয়ে থাকে এমদাদের দখলীয় অংশ যদি পেয়ে থাকে আদালত থেকে রায় নিয়ে আসুক। আমি অনায়াসে ছেড়ে দেবো।

তিনি আরোও বলেন, এইধরনের চিন্তায় আমার বাবা বর্তমানে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকবার ঝিলংজার চেয়ারম্যান টিপু সুলতান এবং থানায় বিচার দিয়েও কোন সুরাহা পাইনি। বাধ্য হয়ে নিজের দোকান দখলের চেষ্টা করেছি অন্যায় কিছুতো করিনি। নিজের স্বার্থের জন্য মরতেও প্রস্তুত আছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এবিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও ফোন রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর উল গীয়াস বলেন, জমির মালিকানা ও দখল বেদখল নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে আদালতের আশ্রয় নেয়া যায়। রাতের আঁধারে ভাংচুর চালানো আইনসিদ্ধ নয়। খরুলিয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। কয়েকজন আটক আছেন। বাকি জড়িতদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *